April 19, 2026, 4:54 pm

বালিয়াকান্দির প্রতিটি রাস্তায় মাটিবাহী টলির দৌরাত্ম্য—দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

মোঃ জাহিদুর রহিম মোল্লা জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী :রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার প্রতিটি রাস্তায় এখন চলছে মাটি টানা টলির দাপট। শীতের মৌসুম শুরু হতেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে চলাচলকারী এসব মাটিবাহী টলি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, বেশিরভাগ টলিরই নেই দক্ষ ড্রাইভার। নেই কোনো ধরনের অনুমোদন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। টলির কারণে সৃষ্টি হচ্ছে ধুলা-দূষণ, নেই পলি বা মাটি সামলানোর সঠিক ব্যবস্থা—ফলে পথচারী, স্কুল শিক্ষার্থী ও যানবাহনচালকেরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

এলাকাবাসীর মতে, এসব টলি নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও কিছুদিন পর আবার আগের মতোই শুরু হয় তাদের দৌরাত্ম্য।

পথচারীরা অভিযোগ করে বলেন,
“প্রতিদিন এই টলির ধুলোবালি ও শব্দদূষণে আমরা অতিষ্ঠ। রাস্তাঘাট নোংরা হচ্ছে, দুর্ঘটনার ভয় তো আছেই। প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি দরকার।”

সাধারণ মানুষের দাবি—অবৈধ টলিগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহাসানুল হক শিপন বলেন অবৈধ মাটি কাটা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। ড্রাইভিং লাইসেন্স এর তদারকি কার্যক্রমও চলমান আছে। দাপ্তরিক দায়িত্ব ও জনবল সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদের পক্ষে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা দুঃসাধ্য।

উল্লেখ্য, উল্লিখিত অপরাধের ক্ষেত্রে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুসারে যেকোনো নাগরিক নিজেও মামলা দায়ের করতে পারেন।

মোঃ জাহিদুর রহিম মোল্লা বালিয়াকান্দি রাজবাড়ী

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা